বেলের স্বাস্থ্যগুণ ও অপকারিতা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
বেলের স্বাস্থ্যগুণ
প্রকাশঃ
বেল (Aegle marmelos) বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় মৌসুমি ফল। এটি শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। বহু প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসায় এই ফলের ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত বেল গ্রহণের কিছু অপকারিতাও রয়েছে। তাই বেলের উপকারিতা ও সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।
বেলের উপকারিতাঃ-
- বেল পাকস্থলীর জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কার্যকর। বেলে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার এবং প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ উপাদান অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায়।
- বেল পাতার রস এবং বেলের শরবত আমাশয় ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ট্যানিন ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান পেটের সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।
- বেল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, বেল পাতার নির্যাস রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- বেলে থাকা ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিক্যাল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, যা সর্দি-কাশি ও সাধারণ সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক।
- বেলে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায়।
বেলের অপকারিতাঃ-
- অতিরিক্ত বেল কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করতে পারে
- যদিও পরিমাণমতো বেল খেলে হজমের জন্য ভালো, তবে অতিরিক্ত গ্রহণ করলে এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে।
- বেলে পটাশিয়াম থাকায় এটি রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু যারা লো ব্লাড প্রেশারে ভুগছেন, তাদের জন্য এটি ক্ষতিকর হতে পারে।
- বেলের শরবত বা বেলের মিশ্রণ যদি অতিরিক্ত চিনি দিয়ে তৈরি করা হয়, তবে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
- কিছু মানুষের জন্য বেল খেলে অ্যালার্জি বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে, বিশেষ করে যদি কেউ এতে সংবেদনশীল হয়।
বেল একটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর ফল, যা হজমশক্তি বাড়ানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত গ্রহণ করলে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, নিম্ন রক্তচাপ বা অ্যালার্জির মতো সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই বেল খাওয়ার আগে পরিমাণের বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত।